রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘একুশে পদক-২০২৬’ প্রদান করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জ্ঞান-বিজ্ঞান ও শিল্প-সাহিত্যকে রাজনীতিকরণ না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, গুণীজনদের সম্মান জানানো রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘একুশে পদক-২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, একটি সমাজ ও রাষ্ট্রে কৃতি মানুষের সংখ্যা যত বাড়বে, সেই সমাজ সমৃদ্ধি ও নৈতিকতার মানদণ্ডে তত বেশি আলোকিত হবে। রাষ্ট্র মূলত নিজের প্রয়োজনে এবং সমাজকে সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যেই জ্ঞানীগুণী মানুষদের সম্মানিত করে। বৃহস্পতিবার পদক হস্তান্তর শেষে তিনি এসব কথা বলেন। উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী এদিন সচিবালয় থেকে পায়ে হেঁটে অনুষ্ঠানে যোগ দেন এবং অনুষ্ঠান শেষে পুনরায় পায়ে হেঁটে কর্মস্থলে ফেরেন, যা উপস্থিত সবার নজর কেড়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে একুশে পদকের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এই সম্মাননার প্রবর্তন করেছিলেন। এটি কেবল একটি পদক নয়, বরং এর মাধ্যমে ৫২-র ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত শিক্ষা, সাহিত্য ও শিল্পকলায় যারা অবদান রেখেছেন, তাঁদের সঙ্গে সাধারণ মানুষের মেলবন্ধন তৈরি হয়। ১৯৭৬ সালে মাত্র তিনটি বিষয়ে এই সম্মাননা চালু হলেও বর্তমানে অন্তত ১২টি ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় এই পদক প্রদান করা হচ্ছে, যাকে তিনি একটি ইতিবাচক অর্জন হিসেবে অভিহিত করেন।
জ্ঞান-বিজ্ঞান ও শিল্প-সাহিত্য চর্চাকে রাজনীতিকরণ করার তীব্র সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানান, শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব সভ্য সমাজের পরিচয় নয়। বর্তমান সরকার একটি উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চায় যেখানে জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রতিটি শাখা স্বাধীনভাবে বিকশিত হতে পারবে। এই লক্ষ্য অর্জনে তিনি দেশের বিজ্ঞজনদের গঠনমূলক দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।
ফেব্রুয়ারি মাসকে আত্মপরিচয় উপলব্ধির মাস হিসেবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, একুশে ফেব্রুয়ারি আমাদের সংস্কৃতিচেতনার প্রাণপ্রবাহ। এটি একদিকে যেমন মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার সংগ্রাম, অন্যদিকে তেমনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন। প্রতি বছরের মতো এ বছরও রাষ্ট্র ভাষা সংগ্রামী, কবি ও শিল্পীদের সম্মানিত করার মাধ্যমে নিজের দায়িত্ব পালন করেছে।
অনুষ্ঠানের শেষে প্রধানমন্ত্রী একুশে পদকপ্রাপ্ত গুণীজনদের আন্তরিক অভিনন্দন জানান। তাঁদের সৃজনশীল কাজ যেন দেশের সাধারণ মানুষকে আরও অনুপ্রাণিত করে এবং তাঁদের জীবন যেন দীর্ঘ ও কল্যাণময় হয়, সেই প্রার্থনাও করেন তিনি। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।